,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ব্যাপক রদবদলের গন্ধ বাংলাদেশের রাজনীতিতেঃ মূল্যায়ন হতে পারে আত্মত্যাগী নেতাদের «» ব্রিজ ভেঙে পাথরবোঝাই ট্রাক খালে «» এক ম্যাচেই তিন রেকর্ড রোনালদোর! «» রোনালদোর অভাব বুঝতেই দিলেন না রোনালদোর দিবালা-মোরাতারা «» উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা–সংক্রান্ত বিধান বাস্তবায়নে নির্দেশ «» ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন «» শিক্ষামন্ত্রী-ভিসিরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে বৈঠকে «» স্বপ্ন দেখেন বুসকেতস মেসিকে ছাড়াও চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে «» বৈরাণ নদীর উপর নির্মিত ভাতকুড়া সেতু ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ গ্রস্থদের নৌকা দিয়ে পাশে দাঁড়ালেন “আরশেদ আলী রাসু” «» বৈঠক শুরু আজ ভোট ও আন্দোলনের কৌশল ঠিক করতে বিএনপির সিরিজ

আমলাতন্ত্রের দম্ভের হাত সাংবাদিক পেশাদারিত্বের গলায়

একে এম ফখরুল আলম বাপ্পী চৌধুরী : চোর, চোর, চোর…….. থামুন। সে চোর নয়। সে তথ্য চোর। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট চোর (আদালত থেকে প্রমাণ হওয়ার পর চোর শব্দটি প্রযোজ্য)। চোর শব্দটির সাথে আমরা সকলেই অতি পরিচিত। নিকটতম প্রাচীনে গ্রাম অঞ্চলে কৃষকের ঘরে শিঁদকাটা চোরের গল্প বা স্বচোখে দেখা হয়নি, এমন লোক কমই আছে। কাজ না পেয়ে অভুক্ত থাকা দিনমুজুর বা বর্গাকৃষক, তারাই কখনও কখনও চোর রূপে আর্বিভাব হতো। সময়ের পরিক্রমায় উন্নয়নের ক্রমধারায় গ্রাম যখন শহরে রূপান্তর হয়েছে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা মৌলিক অধিকার যখন স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে, তখন গ্রাম-গঞ্জে স্বল্প চাহিদার মানুষগুলির কাছে চোর শব্দগুলি অনেকটাই অপরিচিত হয়ে গল্প কাহিনীতে রূপ নেয়।


এখন গ্রামে মাটির ঘরে শিঁদকাটার চিত্র আর দেখা যায় না। উচ্চ শিক্ষিত আমলাদের পুকুর চুরির আড়ালে ঢেকে পড়েছে গ্রামের সেই শিঁদকাটা চুরি। মুজিব শর্তবর্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এক ভিন্ন চোর আবিষ্কার করে ফেললেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, “তথ্য চোর”। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় দন্ডবিধি ৩১৯ ও ৪১১ মামলা দায়ের করেছেন, যাহার বাদী স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয় এর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী।
এই ওসমান সাহেবরাই বিভিন্ন বক্তৃতায় সাংবাদিকদের জ্ঞান বিতরণ করেন এই বলে, বস্তুনিষ্ঠতাই হোক সাংবাদিকদের আদর্শ। তথ্য-উপাত্তের সত্যতা, বাস্তব, নির্ভরযোগ্য সাক্ষী-প্রমাণ পরিপন্থি কোন সংবাদ পরিবেশন করা যাবে না। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করাই হোক সাংবাকিদের অঙ্গিকার। তাহলে কি স্বাধীন রাষ্ট্রে সাংবাদিকরা পরাধীনের মতো শিখিয়ে দেওয়া কাব্য রচনা করবে। তাই যদি না হয়, তাহলে সাংবাদিকতা করতে গেলে তথ্য, প্রমাণ লাগবেই, সেই তথ্য প্রমাণ, সম্পর্ক তৈরি করেই হোক, টাকার বিনিময়ে হোক, ছলছাতুরি বা চুরি যেভাবেই হোক তা সংগ্রহ করতেই হবে। এটা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার একটা পার্ট। এই পার্ট যদি অপরাধ যোগ্য হয় তাহলে সাংবাদিকতা পেশাটাকেই অপরাধযোগ্য পেশা হিসাবেই চিহ্নিত করতে হবে রাষ্ট্রের। তা না হলে সে রাষ্ট্রের স্বাধীন সাংবাদিকতা থাকবে না। এই তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে, সুস্বাস্থ্য মাসল প্রর্দশন করলেন তা ১৮ কোটি নাগরিক সাক্ষী। সাংবাদিক হিসাবে নয়, একজন সাধারন নাগরিক হিসাবে আমি উল্টো বিচার দাবি করছি। একজন গণমাধ্যম কর্মীর টুটি চেপে ধরা মানে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার টুটি চেপে ধরা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। সাক্ষী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী, যদি তাহারা ভিডিও ফুটেজটি দেখে থাকেন। তাহলে বিলম্ব না করে অতি শীঘ্রই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, কাজী জেবুন্নেসা বেগমকে আইনের আওতায় এনে দায় মুক্ত হোন। নয়তোবা সফলতার এই অর্জন ক্ষুদ্র একটি উসিলাতেই বিলিন হয়ে যেতে পারে।


প্রথম আলোর অনুসদ্ধানী রিপোর্টার রোজিনা ইসলাম আজকের তারকা সাংবাদিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে একটি সুপরিচিত নাম। আর কাজী জেবুন্নেসা বেগম একটি ঘৃনীত নাম। এদের অবস্থান নির্ণয় করেছেন রাষ্ট্রের জনগণ। জনগণ যদি রাষ্ট্রের চালিকা শক্তি হয় তাহলে জনগণের বিশ্লেষণই সঠিক বিশ্লেষণ। হয়তো ভুলে গেছেন, মনে করিয়ে দিচ্ছি “জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস”। তাই জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সঠিক নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেই নথিটি বাহির করে জনগনের সামনে উপস্থাপন করে দোষি ও অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দায়মুক্ত হোন।

কেন সাংবাদিকদের এই দূরবস্থা ?


বাংলাদেশের সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের গৌরব উজ্জ্বল দিন ছিল। কিছু অপরাধী নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য, নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্যে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসাবে মিডিয়া প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে। ব্যবসায়িকরা এখন সাংবাদিকদের কর্ণধার হিসাবে বেমানান হয়েও অভিভাবকের আসনে বসে আছেন।


ঠিক তেমনি প্রথম আলোও এমন একটি ব্যবসায়িক সিন্টিগেট মিডিয়া প্রতিষ্ঠান। আমার জানা মতে, প্রথম আলো একটি বড় ঔষধ কোম্পানী রয়েছে। সেই স্বার্থেই কখনও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে আতাআত নিবিড় সম্পর্ক, স্বার্থ টান-পূরণে তিক্ত সম্পর্কের তৈরি হয়। রোজিনা তো তাদের ব্যবসায়িক সিন্টিগেটের মাঠ পর্যায়ের একটি বাহক মাত্র। যা রোজিনা হয়তোবা কোন সময় জানতেই পারেনি। ৬ ঘন্টা অবরূদ্ধ থাকা অবস্থায় প্রথম আলোর ভূমিকা দেখে রোজিনা হয়তো আনদাজ করতে পারে। প্রথম আলোর মালিক প্রয়াত লতিফুর রহমানের দুদকে মামলা ছিল। সম্পাদক মতিউর রহমান উরফে বাচ্চু মিয়া সম্পর্কেও দুদক তদন্ত করছে। দেশের অন্যন্যা ব্যবসায়িকদের তাদের ব্যবসার স্বার্থে সাংবাদিকদের ব্যবহার করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একের পর এক নিউজ করা এটা প্রথম আলোর ব্যবসায়িক নীল নকশাও হতে পারে।


দূর্ভাগ্য সাংবাদিকদের দেশের বড় বড় ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলি ব্যবসায়িক মাফিয়াদের কাছে চলে গেছে। আমরা নিজেদেরকে সাংবাদিক ভাবছি, সংবাদ কর্মী ভাবছি, মিডিয়ার মালিকগণ ভাবছেন আমরা তাদের ব্যবসায়িক একজন ক্ষুদ্র কর্মচারী। সাংবাদিক বা সংবাদ কর্মীদেরকে তার ব্যবসায়িক কর্মচারী ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় সরকার নয়, মিডিয়ার মালিকগণ নিজেরাই।

ভারতের ইতিহাসে চার জন সাংবাদিক সরকারী নথি চুরির অপরাধে মামলা হয়েছে, আদালত তাদেরকে স্বল্প সময়ে জামিন দেন। পরবর্তীতে আদালতে নথি উপস্থাপন হলে তাদেরকে খালাস দেন ভারতীয় আদালত। অন্যান্য রাষ্ট্রেও সাংবাদিকদের এমন ইতিহাস খুজে পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এই প্রথম। রোজিনাও জামিনে বের হয়ে আসবে। আদালত কি নথি তলফ করবে ? রাষ্ট্রের জনগণ কি জানবে, সেই নথির রহস্য ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যোগাযোগঃ

মীর প্লাজা ( ৩য় তলা ), ৮৮  সি কে, ঘোষ রোড , ময়মনসিংহ ।

মোবাইল: ০১৭১১-৬৮৪১০৪

ই-মেইল: matiomanuss@gmail.com