,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ঈশ্বরগঞ্জ ৭দিন ব্যাপী গ্রামীণ নারীদের উদ্যোক্তা তৈরীর প্রশিক্ষণ শুরু- «» ময়মনসিংহ মেডিক্যাল ৪ জনের মৃত্যু করোনা ইউনিটে «» বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, ঢাকায় এফএও এর সংবাদ সম্মেলন «» ময়মনসিংহ ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে অভিযোগ «» গফরগাঁও হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার সহ বেশ কিছু ওয়ার্ড বন্ধ «» ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন «» ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন «» তারাকান্দায় ঝূকিপূর্ণ সাঁকো ব্রিজ নির্মাণের দাবি «» আদালতে বলেন পরীমনির আইনজীবী, ‘স্যার আর হবে না’ এ রকম ভুল, «» দ্রুত টিকা দেওয়া হবে ১২-১৭ বছরের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্যাপক রদবদলের গন্ধ বাংলাদেশের রাজনীতিতেঃ মূল্যায়ন হতে পারে আত্মত্যাগী নেতাদের

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন।শুদ্ধিকরণ অভিযানে নেমেছে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই দলে বিদ্রোহীদেরকে বহিষ্কার, সুনাম ক্ষুন্নকারীদের পদ বঞ্চিত করে অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন। দলীয় সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হবে আওয়ামী লীগে। সুবিধাভোগী ও মধুলোভীদের কোনো কোনো ঠাই নেই আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে, তাঁদের অনেকেই এখন নিরাপদ অবস্থান নিয়েছেন। খুব বেশি প্রকাশ্য হচ্ছেন না। কেউ কেউ নিজেদের পরিচিত বড় নেতাদের কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করছেন, এই অভিযান আসলেই কতটা সিরিয়াস। ঢাকার বাইরেও অভিযান চলবে কি না, এমন জিজ্ঞাসাও করছেন কেউ কেউ। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। সবই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায়।
এদিকে দলকে শক্তিশালী ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ বিএনপির রাজনীতি। দলীয় বিশৃঙ্খলা টের পেয়েই তারা হাইকমান্ডের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকের আয়োজন করে দলকে পরিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তৃনমূল একাধিক সুত্র। নগর মহানগর নেতৃত্বে রদবদল, যুবদল ও ছাত্রদলের পুনর্গঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চায় দলটির তৃণমূল নেতারা। বিএনপির এই ধারাবাহিক বৈঠক শুরুর আগে বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও খুলনার নেতাকর্মীদের মুখে এমনটাই দাবী শোনা গেছে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়। সরাসরি সাক্ষাৎকারে বরিশাল বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান, খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এসএম শফিকুল আলম মনা, ময়মনসিংহের অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলামসহ আরো অনেকে তৃণমুলের এই দাবীর কথাই বলেছেন বারবার। এই তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা গত ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন দলীয় হাইকমান্ড তথা তারেক রহমানের সাথে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা থেকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। চলে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকৌশল ঠিক করার লক্ষ্যে দলীয় হাইকমান্ড ও নেতানেত্রীদের মতামত জানতে ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে বিএনপির এই ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে। এটা মূলত রাজনৈতিক কলাকৌশল ঠিক করতে। আর তিনদিনের বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা এখন চিন্তাই করছিনা। দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি এই বৈঠকের মুল লক্ষ্য। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন সামনের সারিতে । প্রথম দিন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের এবং দ্বিতীয় দিন দলের যুগ্ম মহাসচিব-সাংগঠনিক সম্পাদক-সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন হাইকমান্ড । তৃতীয় দিন দলের অঙ্গসংগঠনের অর্থাৎ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, তাঁতী দল, উলামা দল, মৎস্যজীবীদলসহ অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতা মিলে ৯২ জন অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদুর, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ই্য়াসীন আলী, সাদরেজ জামান, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, শাম্মী আখতার, জেবা খান, হেলেন জেরিন খান, চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন, জাকিরুল ইসলাম জাকির, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মামুন খান, পার্থদেব মন্ডল, মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনুর রহমান আমিন, উলামা দলের শাহ নেসারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন । তিনদিনের এই বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় দফতরের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, তায়েফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, চেয়ারপারসন কার্যালয়ের এবিএম আবদুস সাত্তার, রিয়াজ উদ্দিন নসু এবং প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‌‘আমাদের তিনটি সভা হলো, এটা তৃণমূলের সাথে বৈঠক দিয়ে শেষ হলো।’ তিনি আরো বলেন, আগামী শনিবারে আমাদের স্থায়ী কমিটির মিটিং আছে। সেই মিটিংয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে, আরো কয়েকটি সভা করব কি না? কারণ, আমাদের এখনো কিছু কার্যনির্বাহী সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় বাকি রয়েছে। তাদের নিয়ে এবং জেলা পর্যায়ের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিদের নিয়ে আবারও মিটিং করার কথা আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়ত সেই বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেব। পরে আমাদের পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে। আমরা দেখি যে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যদি সিদ্ধান্ত হয় পরবর্তীতে এসব মিটিংগুলো আমরা করব।’তিনটি সভায় নেতাদের কাছ থেকে কী কী পরামর্শ এসেছে, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘এটা সময়মতো জানতে পারবেন। আমরাই আমাদের প্রয়োজনেই আপনাদের জানাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যোগাযোগঃ

মীর প্লাজা ( ৩য় তলা ), ৮৮  সি কে, ঘোষ রোড , ময়মনসিংহ ।

মোবাইল: ০১৭১১-৬৮৪১০৪

ই-মেইল: matiomanuss@gmail.com