,

চীনের পশমশিল্প কারখানা করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য উৎসস্থল : জার্মানির বিজ্ঞানীর দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি:করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য উৎসস্থল হলো চীনের পশমশিল্প কারখান। এ দাবি করেছেন জার্মানির শীর্ষ ভাইরোলজিস্ট (ভাইরাসবিদ) ক্রিশ্চিয়ান ড্রস্টেন। সুইজারল্যান্ডের অনলাইন পত্রিকা রেপব্লিকে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানিয়েছেন।
ক্রিশ্চিয়ান ড্রস্টেনের এই সাক্ষাৎকার আজ জার্মানির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। ক্রিশ্চিয়ান ড্রস্টেন জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইরাস–বিষয়ক প্রকল্পে নেতৃত্ব দেন। তিনি জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে তিনি বার্লিন চ্যারিটি মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। গত এক বছর জার্মান সরকারের করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত নানা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম পরামর্শদাতা।

ভাইরোলজিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ড্রস্টেন সুইজারল্যান্ডের পত্রিকা রেপব্লিককে জানিয়েছেন, চীনের পশমশিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহত র‍্যাকুন কুকুর এবং বনবিড়াল প্রজননের জন্য কৃত্রিম খামারও রয়েছে। এই প্রাণী দুটি গাছে চড়তে সক্ষম এবং এরা গাছে ঝোলা বাদুর খায়।

পশমশিল্পে ব্যবহারের জন্য লোমশ র‍্যাকুন কুকুর এবং বনবিড়ালদের লোমশ চামড়ার প্রয়োজনে এসব প্রাণীকে হত্যা করে এদের চামড়া খুলে নেওয়া হয়। প্রাণীগুলোকে মেরে ফেলার সময় এরা চিৎকার করে। এ সময় বাতাসে তাদের মুখ থেকে ড্রপলেট ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের শ্বাসযন্ত্রে গুরুতর সমস্যা তৈরি করে। বার্লিনে চ্যারিটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভাইরাসবিদ এই প্রাণীগুলোর মৃত্যুর সময়ে চিৎকার ও এদের গর্জনের সময় ড্রপলেট তৈরি হয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন, যা মানুষের শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

জার্মানির ডের স্পিগেল পত্রিকাটি ভাইরোলজিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ড্রস্টেনের সক্ষাৎকারটি নিয়ে আজ জানিয়েছে, ২০০২ ও ২০০৩ সালে চীন থেকে এই ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় আট শ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এটি সার্স ভাইরাস নামে পরচিত হয়েছিল। চীনেই ২০১৯ সালের শেষ দিকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি।
বিশ্বব্যাপী অভিজাত শ্রেণির মানুষের মধ্যে শীতকালে পশমের কোর্ট পরার বিষয়টি অভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কয়েক বছর ধরে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ডসহ প্রাণিবান্ধব সংগঠনগুলো পশমশিল্পের জন্য র‍্যাকুন কুকুর এবং বনবিড়াল নিধনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তারা সচেতন মানুষদের এই পশম কোর্ট পরা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রচার চালাচ্ছে। একসময় ইউরোপে পশম কোর্ট তৈরির প্রথা থাকলেও বর্তমানে চীন সারা বিশ্বজুড়ে পশমের কোর্ট ও পশমজাতীয় সামগ্রীর রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যোগাযোগঃ

মীর প্লাজা ( ৩য় তলা ), ৮৮  সি কে, ঘোষ রোড , ময়মনসিংহ ।

মোবাইল: ০১৭১১-৬৮৪১০৪

ই-মেইল: matiomanuss@gmail.com