,
সংবাদ শিরোনাম :
«» রোগীদের সুস্থ্য করার হাসপাতাল যখন নিজেই অসুস্থ্য :ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে «» বিএনপির তর্জন-গর্জন শোনা যায়, বর্ষণ দেখা যায় না: সেতুমন্ত্রী «» বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাকৃবি’তে গবাদিপশুর চিকিৎসা ও ভ্যাক্সিন প্রদান কর্মসূচি «» সম্মেলন ডেকে হেফাজতের আমির নির্বাচন করা হবে: বাবুনগরী «» নারকেলগাছে উঠে পড়লেন মন্ত্রী, গাছে বসেই সংবাদ সম্মেলন করলেন «» যে কারণে ইউএনও ওয়াহিদা জনপ্রশাসনে ওএসডি, স্বামী মেজবাউল হোসেনকে বদলি «» তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার: মসজিদে বিস্ফোরণ «» মনে কষ্ট নিয়ে চলে গেলেন আল্লামা শফী, হাটহাজারীতে জানাজার পর দুপুরে দাফন «» আবারো ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার সৌদি আরবের «» আগামী বছরের শুরুতে ঢাকা সফর করবেন এরদোয়ান

ময়মনসিংহে নব্য আওয়ামী লীগার হাইব্রিডনেতাদের উত্থান !

আশিক চৌধুরী ॥
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নব্য আওয়ামী লীগ ও হাইব্রিডনেতার জয় জয়াকার। কেন্দ্রে সেই কমিটি জমা পড়েছে।
অনুমোদনের আগে অভিযোগ আপত্তি উঠছে। জেলায় জোর গুজ্ঞন চলছে পদ বাণিজ্যের। টাকার যোগ্যতায় অনেকে কমিটিতে আসছেন বড় পদে। টাকাহীন যোগ্যরা ছিটকে পড়ছেন।
সাম্প্রতিক ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশী আলোচিত বিষয় হলো এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক আমিনুল হক শামীম এর রাজনৈতিক উত্থান। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন নবাগত।
কোটি কোটি টাকার মালিক ব্যবসায়ী নেতা শামীম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। সূত্রমতে, অতীতে বিএনপি-জাতীয় পার্টির সাথে ঘনিষ্ট ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলভুক্ত হয়ে সফরসঙ্গী হতে থাকেন।
ময়মনসিংহে পরিবহন ব্যবসা থেকে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি সফল ব্যবসায়ী। পরিবহন নেতা থেকে ব্যবসায়ী নেতা। জামালপুর জেলার কৃতিসন্তান, ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করতেন বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ।
ধারনা করা যায়, আওয়ামী লীগের সদস্যপদ কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা উপলব্ধি করেন ময়মনসিংহ পৌরসভার নির্বাচনের সময়। তার সহোদর ছোট ভাই ইকরামুল হক টিটু ছিলেন পৌর কমিশনার ও প্যানেল মেয়র। সাবেক মেয়র এড. মাহমুদ আল নূর তারেকের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়র হন। আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায়।
বিগত পৌর নির্বাচনে টিটু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। কিন্তু তৃণমূল ভোটিং এ হেরে যান। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম তারা, সাধারণ সম্পাদক এড. সাদেক খান মিল্কী টজু ছিলেন তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা। কিন্তু কেন্দ্রে ব্যাপক লবিং এর জের ধরে আওয়ামী লীগের টিকেট অর্জন করেন টিটু। নির্বাচনে তৎকালীন এমপি আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমে আওয়ামী লীগ তার জয় নিশ্চিত করে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে ভোটের ব্যবধান ছিল ২ হাজারের মতো। বিএনপি নির্বাচন কমিশনে মামলা করে। পৌর নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে যখন আওয়ামী লীগ ইকরামুল হক টিটুকে মনোনয়ন দেয় তখনই ময়মনসিংহে ব্যবসায়ী রাজনীতির উত্থান ঘটে। আদর্শের রাজনীতি চাপের মুখে পড়ে।
সে সময়েই প্রশ্ন উঠে-টিটু আওয়ামী লীগের সদস্যই নন। তিনি দলের মনোনয়ন পান কী করে ? সে সময়ে টিটু ১০ টাকায় কেনা একটি প্রাথমিক সদস্য পদের রিসিট দেখান। সুতরাং আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদের গুরুত্ব কী তা তাদের (টিটু-শামীম ভ্রাতৃদ্বয়) চেয়ে কেউ বেশি জানেন না।
মেয়র পদে টিটুকে মনোনয়ন দেয় হাইকমান্ড কিন্তু এজন্য জেলায় তৃণমূলে সমালোচিত হন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। প্রতিদানে জেলা কমিটিতে বেশি দিন সময় লাগে নি। অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই গ্রুপ করেন মেয়র টিটু।
জেলা সম্মেলনকে সামনে রেখে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে কয়েকটি শূন্য পদে কো অপশন যোগে সদস্য নেয়া হয়। মেয়র টিটুকে পদ না দেয়ায় বর্ধিত সভা শেষে দলীয় অফিসের অদূরে ক্যাডাররা ককটেলবাজী করে।
জেলা আওয়ামী লীগ গ্রুপিং এর সূত্রপাত সেখান থেকেই। তারপর শুরু হয় আধিপত্য বিস্তার। শহর, দল, অঙ্গ সংগঠন সব কিছুতেই গ্রুপিং পলিটিক্স দান বাঁধে। এখন সব কিছুই খন্ডিত।
সম্মেলনের আগে টিটু গ্রুপের উত্থান দানা বাঁধে পদবঞ্চিত নেতাদের অংশগ্রহনে। সেখানে গ্রুপটির নেপথ্যে থেকে আমিনুল হক শামীম প্রভাবশালী হয়ে উঠেন।
জেলার বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ওই গ্রুপিং বলয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফলে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শামীম এর প্রভাব অস্বীকার করা অসম্ভব বলে জনশ্রুতি জেলা কমিটিতে দানা বাধে। প্রচার পায় তিনি ১ নং সিনিয়র সহ-সভাপতি হতে যাচ্ছেন। আর তার ছোট ভাই মেয়র টিটু মহানগর আওয়ামী লীগে সহ-সভাপতি পদ পাবেন বলে ঘনিষ্ট সূত্র থেকে প্রচার।
জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমিনুল ইসলাম শামীম এর নাম সহ-সভাপতির তালিকায় ৩ নম্বরে রয়েছে। তার পত্রিকা দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ এ তাকে (শামীমকে) সম্ভাব্য সহ-সভাপতি হিসাবে উল্লেখ করা হয়। বলা হয় তিনি ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে এমপি পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী।
আমিনুল হক শামীম ও ইকরামুল হক টিটু ভ্রাতৃদ্বয় এখন আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগরের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর। সূত্রমতে, জেলা ও মহানগরে তারা গ্রুপ পলিটিক্সের প্রতিভূ হবেন-সেটাই স্বাভাবিক।
ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগে সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা আদর্শের রাজনীতির প্রতীক ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও তার উত্তরসূরী শান্তর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের নেতা তারা।
আওয়ামী লীগ এখন দ্বিধারায় বিভক্ত। সেখানে ঐক্যের রাজনীতির সম্ভাবনা নাই। ভবিষ্যৎ জটিল। এজন্য দায়ী কে ? কিছুটা হলেও কেন্দ্র নয় কী ? আওয়ামী লীগের কোন কমিটিতে সদস্য না হয়েও তারা গ্রুপিং লবিং এর জোরে আজ যে প্রভাব বিস্তার করেছেন সামনে কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে তারা সেই প্রভাবকে তীব্রতর করবেন এটাই স্বাভবিক। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এই নব্য আওয়ামী লীগাররা হতে পারেন ঐক্য নয় গ্রুপের প্রাণকেন্দ্র। ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের রাজনীতির প্রভাব ও নেতৃত্ব আগামীতে কোন সমীকরণ ঘটাবে তাই এখন দেখার পালা।
এক ভাই এমপি পদে আরেক ভাই মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের লক্ষমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল সংগঠন,দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা দলের ঐক্যের প্রশ্নে উদ্বিগ্ন। কেননা- ঐক্যবিধ্বংসী গ্রুপ পলিটিক্স থেকে সহসাই তাদের বেরিয়ে আসা। কঠিন। ময়মনসিংহের টোটাল রাজনীতিই এখন দ্বিখন্ডিত গ্রুপিং এর নমুনায় ভারাক্রান্ত। যে গল্পের শেষ নেই।
যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করে মামলা হামলা, জেল জুলুম খেটে, দলের দুর্দিনে রাজপথের লড়াই সংগ্রামে অবদান রেখেছেন-যারা আদর্শের রাজনীতির করে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছেন-তাদের উপর এখন টাকার জোরে ও লবিং গ্রুপিং এর জেরে নেতৃত্বের আসনে বসছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে, যে ধারা প্রচলিত ছিল সেটা এখন অস্বস্তিকর চ্যালেঞ্জের মুখে। রাজনীতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টাকার প্রভাবে। সময়ের সাথে রাজনীতির পরিবর্তন এখন এখানে আধিপত্য বিস্তার, গ্রুপিং, কোন্দাল, দখলবাজীতে জেরবার অবস্থায় পড়েছে।
নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও বিকাশে রাজনীতি চর্চা নয় টাকা প্রভাব মুখ্য হয়ে পড়েছে। যা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সামনে অশনিসংকেত।
কিন্তু নব্য আওয়ামী লীগার, হাইব্রিড নেতা ও ব্যবসায়ী রাজনীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যত সতর্কবাণীই উচ্চারণ করেন না কেন-ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পূর্ণাাঙ্গ কমিটিতে তাদেরই প্রাধান্য।
অনেকের মতে-আমিনুল হক শামীম জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে আসছেন যা আওয়ামী লীগে নতুন আসা বা আসতে চাওয়াদের জন্য গুড সাইন। তিনি ইতোপূর্বে কোন কমিটিতে না থেকেও যদি সরাসরি জেলা কমিটির সহ-সভাপতির মতো ভাইটাল পদে আসতে পারলে আওয়ামী লীগের সমর্থক সক্রিয় রাজনীতি করতে ইচ্ছুক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা কেন জেলা বা মহানগরে কমিটিতে সদস্য পদ পাবেন না। এধরনের বেশ কজন প্রতিশ্রুতিশীল নেতার কথা জানা গেছে যারা কমিটিতে পদ প্রত্যাশী। তাদের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। অন্যথায় ত্যাগী নেতা কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে নব্য আওয়ামী লীগারদের দলে প্রতিষ্ঠিত করলেও ধ্বংস হয়ে পড়বে সংগঠনের নীতি, সিদ্ধান্ত। টাকা ওয়ালারা, রাজনীতির বেনিয়ারা রাজনীতির সাথে নেতাকর্মীদের কিনবেন-ভোট কিনবেন মনোনয়ন কিনবেন ! তারা কী পারবেন জনগনকে কিনতে।
রাজনীতির নেতাকর্মী বেচা কেনার হাটে সবাই নেতা হতে চায়। টাক ঢালে। ১৫ লাখ টাকা দিতে পারলেই পদ পাওয়া যায়। এটা জনশ্রুতি। যারা টাকা দিতে পারবেন না-তারা যাবেন কোথায় ? আদর্শ, অবদান, ত্যাগ তিতীক্ষা, অগ্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা হাইব্রিডদের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্ম্যের মুখে অসহায়। তারা কী বিশেষ গ্রুপে ভিড়বেন রাজনৈতিক ক্রিতদাস হয়ে ? না হাইকমান্ডের কাছে নীতিগত প্রশ্নে সুরক্ষা চাইবেন।
সংগঠনের শক্তিশালী ভিত গড়তে যারা দীর্ঘ দুঃসময় ধরে লড়াই করবেন তাদেরকে পরজিত করে দলের সুসময়ের নেতাদের বিজয় রথ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial