Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব «» আজ ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী : গুণীজন সম্মাননা ‘২০১৯ পাচ্ছেন ১৩ গুণী ব্যক্তিত্ব «» অস্ত্র চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি মানিক গ্রেফতার «» ডাকসু’র জিএস ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাঃ সম্পাদক রব্বানী’র জন্মদিনে বাকৃবি শাখার দৃষ্টিনন্দন আয়োজন «» কলমের স্বপ্নভঙ্গ- ৭১’এর মতো আরেকটি যুদ্ধ করতে হবে, তরুণ প্রজন্ম তৈরি থেকো- ফ্যাক্ট রোহিঙ্গা «» অক্সিজেনের ফ্যাক্টরিতে আগুন : আমাজন জঙ্গল «» পরিচ্ছন্ন নগরী চাই, ডেঙ্গু মুক্ত জীবন চাই «» ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর চাই না «» বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কিছু সময় «» রিতুকে ফিরে পাওয়ার আকুতি ; সন্ধান চাই

ব্রহ্মপুত্রে পানকৌড়ির বিরামহীন ডুব মাছ নেই

বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥
ডুব আর ডুব। জোটছে না কিছুই। তবুও বিরামহীন ডুব। পানি নেই মাছ নেই ব্রহ্মপুত্রে। আছে মাছ শিকারি। সারা গা, বুক ,কুচকুচে কালো, তাতে সামান্য চকচকে আভা। জলে ভেসে বেড়ায় আবার উড়তেও পারে। পানকৌড়ি। অন্য নাম জলের কাক। বাংলাদেশে পানকৌড়ি অতি পরিচিত পাখি, বিশেষ করে বিল অঞ্চলে। ব্রহ্মপুত্রে  ৪ থেকে ৫ টি পানকৌড়ি পরিবারকে এখন দেখা যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ জয়নুল আবেদীন পার্কের প্রধান ফটক থেকে ব্রহ্মপুত্রের দিকে তাকালে বাশ পানায় ঘেড়া একটি ছোপ দেখা যাবে। বাশগুলোতেই বেশিরভাগ সময় পাখা মেলে গা শুকায় এরা। ট্রলার বা জনমানুষের একটু আভাস পেলেই একসাথে দল বেধে উড়াল। ঘুরে ফিরে আবার সেখানেই।

মৃত প্রায় এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্রহ্মপুত্র। যা বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। ১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত দিক পরিবর্তিত হয়ে যমুনা নদী হয় [সূত্র:নতুন বিশ্ব]। উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২৮৫০ কিলোমিটার। ব্রহ্মপুত্র নদের সর্বাধিক প্রস্থ ১০৪২৬ মিটার (বাহাদুরাবাদ)। ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা হচ্ছে যমুনা।

পানকৌড়িরা জলে নেমে মাছেদের রাজ্যে গিয়ে ধাওয়া দিয়ে শিকার করে, ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকে না। তার শিকার ধরার মধ্যে শিল্পকলার চেয়ে দৈহিক তৎপরতাই বেশি। দৈহিক কসরতে পানেকৌড়িদের মতো পাড়ে তুড়া জাল নিয়ে মাছ শিকারের চেষ্টায় বিফল সড়ঞ্জাম পড়ে থাকে দেখা যায় বেশিরভাগ সময়। এরাও মনুষ্য পানকৌড়ি। যারা সেই অতীতের পূর্ন যৌবনা ব্রহ্মপুত্রের খরস্্েরাতা ভালোবাসা ভুলতে পারেনি।

গলায় সাদা একটি দাগ, পাখার নিচের পালক ধূসর রংয়ের। লেজের গড়ন নৌকার বৈঠার মতো। ঠোঁট সরু, কিছুটা গোল ধরনের, ঠোঁটের আগা বড়শির মতো বাঁকানো। পা দুটি খাটো এবং মজবুত। হাঁসের পায়ের মতো ওর পায়ের পাতা জোড়া লাগানো। জলের মধ্যে চলার সময় দাঁড়ের মতো পা দিয়ে পানি ঠেলে এগিয়ে যায়। চোখ সবুজাভ বাদামি। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। বয়স্কদের বাইরের দিকে নাকের ফুটা থাকে না।
ডিম পাড়ার সময় এদের গলার দাগটি মিলিয়ে যায়। তার পরিবর্তে কয়েকটি সাদা পালক দেখা দেয়; বিয়ের বরকরে সাদা শোলার টোপরের নির্দশন যেন। আর গলার দুপাশে গায় কয়েকটি মিহি সাদা কোমল পালক, জুঁইফুলের মালার মতো।

পানকৌড়ি উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলের পাখি। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এদের দেখা যায়। এখানকার জলবায়ু, নদী, খালবিল এদের প্রিয় বিচরণত্রে। সময় সময় সমুদ্রের তীরে দেখা গেলেও পানকৌড়ি মিঠা পানির পাখি। বড় পুকুর ও বিল অঞ্চলই এরা বেশি পছন্দ করে। সুন্দরবন অঞ্চলের জোয়ার-ভাঁটার নদীগুলো এদের খুবই প্রিয়। হাঁসের মতো জলের সাঁতার কাটে। তবে পানকৌড়ি। সাঁতরানোর সময় তাদের শরীর পানির নিচে ডুবে থাকে, কেবল গলা ও মুখটি থাকে পানির উপর। আবার মাছের সন্ধানে এরা পানির অনেক নিচে চলে যায়। ডুবসাঁতারেও এরা পটু। সময় সময় একসঙ্গে অনেক পানকৌড়ি এক সারিতে একই দিকে ডুব দিয়ে দিয়ে চলতে থাকে।

পানকৌড়ির প্রধান খাদ্য ছোট মাছ, তবে কাঁকড়া, ব্যাঙাচি, ব্যাঙ ইত্যাদিও খায়। পানিতে সাঁতার কাটার সময় কোনো বিপদের সম্ভাবনা দেখা দিলে শুধু মাথা এবং গলাটুকু পানির উপর জাগিয়ে রেখে ডুবে থাকতে পারে। পানি থেকে ওঠার সময় এদের একটু বেগ পেতে হয়। পানি থেকে উঠে ডাঙাতে কিংবা শক্ত কোনো জিনিসের উপর বসে পাখা শুকায়। জলের উপর কোনো ডালপালা থাকলে সেখানেও এরা সোজা হয়ে বসে পড়ে। তখন নিশ্চিন্ত মনে রোদে পাখা মেলে বহুণ ধরে আরাম করে একইভাবে বসে থাকে।

 

 

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial