Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব «» আজ ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী : গুণীজন সম্মাননা ‘২০১৯ পাচ্ছেন ১৩ গুণী ব্যক্তিত্ব «» অস্ত্র চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি মানিক গ্রেফতার «» ডাকসু’র জিএস ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাঃ সম্পাদক রব্বানী’র জন্মদিনে বাকৃবি শাখার দৃষ্টিনন্দন আয়োজন «» কলমের স্বপ্নভঙ্গ- ৭১’এর মতো আরেকটি যুদ্ধ করতে হবে, তরুণ প্রজন্ম তৈরি থেকো- ফ্যাক্ট রোহিঙ্গা «» অক্সিজেনের ফ্যাক্টরিতে আগুন : আমাজন জঙ্গল «» পরিচ্ছন্ন নগরী চাই, ডেঙ্গু মুক্ত জীবন চাই «» ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর চাই না «» বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কিছু সময় «» রিতুকে ফিরে পাওয়ার আকুতি ; সন্ধান চাই

সালমার জীবন আধাঁরে আলোর দিশা মানবিক পুলিশ

বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥

স্বামীহারা সালমার জীবন আঁধারে আলোর দিশা হয়ে এলো একটি চাবি। যে চাবি একটি নতুন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার। চাবিটি সালমার জীবনে আনন্দ বেদনার কাব্য। সালমা আক্তারের কাছে যা ছিল কল্পনাতীত আশা।
দু মাস আগে তার কপাল ভেঙ্গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি তার স্বামী ফারুক মিয়া (৩৬)। যে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে নিহত হয়। ১১ এপ্রিল রামচন্দ্রপুর নলঘরিয়া পুলের পাশে ধান ক্ষেতে তার লাশ পড়েছিল। মুখে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
রহস্যজনকভাবে নিহত ফারুকের লাশ পাওয়া গেলেও পাওয়া যায়নি ভাড়ায় চালিত তার অটোরিকশাটি। ধারনা করা হয়, অটোরিকশাটি ছিনতাই করতেই এই হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়। বাদী হন বিধবা সালমা আক্তার। পুলিশ তদন্তে নামে। ভাড়ায় চালিত যানবাহন ছিনতাই করতে ড্রাইভারকে খুন করার ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
সে সময়ে একই ধরনের আরো কিছু ঘটনা উপর্যুপরি ঘটে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, চালককে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা-ময়মনসিংহের অপরাধ প্রবনতায় সম্পূর্ন এক নতুন মাত্র। যা উদ্বেগজনক। একশ্রেনীর অপরাধী ছিনতাইয়ের ঘটনায় নতুন কৌশল নিচ্ছে এবং ছিনতাইয়ের তথ্যপ্রমান গায়েব করার জন্যই চালককে খুন করছে।

সময়ে সময়ে অপরাধ প্রবনতায় যে নতুন মাত্র যোগ হয় আবার প্রচলিত আপরাধের ধরন বদল হয়-গাড়ি ছিনতাইয়ে ‘রহস্যমৃত্যু’ তারই নজির।

বিষয়টিতে তাৎক্ষনিক গুরুত্বারোপ করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। মেধাবী ও চৌকষ এই পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষনিক সর্তক। ময়মনসিংহ যোগদানের পরই তিনি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ, ব্যতিক্রমধর্মী ও ক্রিয়েটিভ পদক্ষেপ নেন যা ময়মনসিংহবাসীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করে। যা তার ব্যক্তি স্বাতন্ত্র, চিন্তাধারা ও উদ্দমকে যেমন স্বকীয়তা দেয় তেমনি তা পুলিশের ইমেজকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে। আপরাধ দমনে পুলিশী তৎপরতাকে তিনি সবসময়ই হার্ড লাইনে রাখেন ও আধুনিক ষ্ট্যাটেজিতে চালনা করেন। যে কারনে ক্লুলেস অপরাধের ঘটনাগুলোর রহস্য উন্মোচনে, অপরাধী সনাক্ত ও গ্রেফতারে এবং অপরাধ দমনে তার কৌশল ও নির্দেশনা কার্যকর হতে দেখা যায়। দ্রুত সাফল্যে অর্জন করে পুলিশ।
ঈশ্বরগঞ্জে চালক ফারুককে হত্যা করে আটোরিকশা ছিনতাইয়ে লোমহর্ষক ঘটনায় রহস্য উদঘাটনে এসপি দায়িত্ব দেন ওসি ডিবি আশিকুর রহমানকে। ওসি ডিবি ঘটনারটির রহস্য উদঘাটনে ডিবি এসআই পরিমলকে নিয়ে তদন্তে নামেন।
তদন্তের শুরুতেই পুলিশ লক্ষ্য করে ঈশ্বরগঞ্জের ঘটনাটি শুধু চাঞ্চল্যকর নতুনমাত্রার অপরাধই নয়, এটি অমানবিক। যেখানে রয়েছে সালমার জীবনের মর্মস্পর্শী করুন কাহিনী। অপরাধীরা শুধু ফারুককে হত্যা করে তার জীবন ও জীবিকার অবলম্বনকে কেড়ে নেয়নি। একই সাথে নিহত ফারুকের পরিবারের ভাগ্যকেও বিপর্যস্থ করে ফেলেছে। ভাগ্যাহত পরিবারটির সামনে চলে আসে করুন পরিনতি। চরম দুর্দিন। দু ছেলে এক মেয়ে নিয়ে অকাল বিধবা সালমা ও তার শ্বাশুরী বৃদ্ধা মেহেরজান শুধু শোকার্তই নয় অভিষ্যত নিয়েও চোখে অন্ধকার দেখতে থাকে। তাদের সামনে অচল পৃথিবী। কোথাও কেউ নেই। বাচ্চাদের ভবিষ্যত, লেখাপড়া দুরের কথা- দিন শেষে একমুঠো ভাতের সংস্থান কি করে হবে সেই দুর্ভাবনা শোকের চেয়েও বড় হয়ে উঠে সালমার সামনে। বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
বিষয়টি লক্ষ করেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম যা তার মানবিক মূল্যবোধে নাড়া দেয়। পুলিশী গুরু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষে এই অফিসার মানবিকতার ক্ষেত্রে সব সময়ই উদার। তার হৃদয় স্পর্শকার আবেগ অনুভুতি প্রবন।

ময়মনসিংহবাসী এর আগেও তার মানবতাবাদী মন ও মননের পরিচয় পেয়েছে। তিনি মাটি ও মানুষের পুলিশ। শুধু জনবান্ধব পুলিশ নন, মানবিক পুলিশ হিসাবে তিনি এক মুর্তপ্রতিকৃতী। তিনি সমাজে নীরবে উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে চলছেন তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি।
ঈশ্বরগঞ্জের কোন একজন হতভাগ্য গৃহবধূ সালমার জীবনের ঘনঘোর দু:সময়ে পাশে এসে দাড়ায় পুলিশ। মানবিক পুলিশ।
এসপির ভাবাবেগে তার সাথে এসে দাড়ান তারই আদর্শের অনুগামী ওসি ডিবি আশিকুর রহমান এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের টিম। সম্মিলিত উদ্যেগে এই মানবিক পুলিশ প্রমান করলেন মানুষ মানুষের জন্য। তারা নিজের টাকাসহ আরো কতিপয় মানবপ্রেমী পুলিশের সহায়তায় তহবিল সংস্থান করলেন। কিনলেন একটি নতুন অটোরিকশা। সেই অটোরিকশার চাবি তুলে দিলেন সালমার হাতে। মানবিক পুলিশের অবদানে অসহায় সালমার হাতে পৌছে গেছে তার ভাগ্যের চাবি। খুলে গেছে দিনযাপনের গ্যারান্টির দুয়ার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial