Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব «» আজ ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী : গুণীজন সম্মাননা ‘২০১৯ পাচ্ছেন ১৩ গুণী ব্যক্তিত্ব «» অস্ত্র চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি মানিক গ্রেফতার «» ডাকসু’র জিএস ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাঃ সম্পাদক রব্বানী’র জন্মদিনে বাকৃবি শাখার দৃষ্টিনন্দন আয়োজন «» কলমের স্বপ্নভঙ্গ- ৭১’এর মতো আরেকটি যুদ্ধ করতে হবে, তরুণ প্রজন্ম তৈরি থেকো- ফ্যাক্ট রোহিঙ্গা «» অক্সিজেনের ফ্যাক্টরিতে আগুন : আমাজন জঙ্গল «» পরিচ্ছন্ন নগরী চাই, ডেঙ্গু মুক্ত জীবন চাই «» ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর চাই না «» বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কিছু সময় «» রিতুকে ফিরে পাওয়ার আকুতি ; সন্ধান চাই

ময়মনসিংহ সদরে মহাজোটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল হক শামীম

স্টাফ রিপোর্টার ॥
সদরে মহাজোটে “বিদ্রোহ”। হঠাৎ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। যা ময়মনসিংহের নির্বাচনী রাজনীতিতে নাটকীয় নজির এনেছে।
মহাজোটের প্রার্থী রওশন এরশাদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকলে তিনি হবেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। যা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত সিদ্ধান্তের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

যেখানে জোটগত নির্বাচনের প্রেক্ষিতে সদর আসনে জনপ্রিয়তার র্শীষে থেকেও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবারও দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল রয়েছেন, সেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে অপরাজনীতি হলে, বিস্ফোরনমুখ হয়ে উঠতে পারে এই আসনের দলীয় নেতা কর্মীরা।

 

ময়মনসিংহ সদরে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ১ ডজনেরও বেশি নেতা। যাদের মধ্যে আমিনুল হক শামীমও ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত মানার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জেলা ব্যাপী।

 

উল্লেখ্য, বুধবার জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবার সময় জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পার্টি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: আমিনুল হক ( আমিনুল হক শামীম)।

 

জাতীয় পার্টির নেত্রী বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা এই ব্যবসায়ী নেতা শামীম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তা রাত ৮.৩০ মিনিট পর্যন্ত জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা জানতেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সকলকে হতভম্ব করে দিয়ে আলোচনায় এলেন। সেই সাথে সদর আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম প্রার্থী হলেন।

 

রওশন এরশাদ সদর আসন ছাড়াও ত্রিশাল আসনের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। সেখানে সদরে শামীমের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার রহস্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কেন এই হঠাৎ প্রার্থীর সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পদযাত্রা।
অনেকে মনে করছেন, মনোনয়ন যুদ্ধে পর্দার নেপথ্যে অন্য কোন গেইম আছে কিনা সে প্রশ্নে জল্পনা কল্পনা চলছে। সেই ক্ষেত্রে সদর আসনে নির্বাচনে অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে মাইনাস করতে এই গেইম হলে তা হবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথেই।

 

আওয়ামী লীগ থেকে যাকেই প্রার্থী করা হবে তার পক্ষে সকলকে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করেই এখানে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামীম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এ জনমনে প্রতিক্রিয়ার সূতপাত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিতর্কিত রাজনীতিক, নব্য আওয়ামী লীগার শামীমের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জনমনে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে তার মিশন কি তা কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এই হঠাৎ প্রার্থী হওয়াকে অনেকে চমক হিসেবে দেখতে রাজী নন, তাদের ধারনা এর পেছনে রহস্য থাকতে পারে। পুরো বিষয়টিকে নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

 

ব্যবসায়ী নেতা শামীম সম্প্রতি অনুমোদিত আওয়ামী লীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্যতম সহ-সভাপতি হয়ে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সাংগঠনিক নেতা হিসাবে নাম লেখালেও ছাত্রজীবনে তিনি বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলে জড়িত ছিলেন। জামালপুরে আশেক মাহমুদ কলেজের ছাত্র সংসদে নির্বাচন করেছেন বলে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
তার ছোট ভাই ইকরামুল হক টিটু ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এর প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি। সাবেক মেয়র ও বর্তমানে মহানগরের প্রশাসক টিটুর ভাই শামীম সম্প্রতিক বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের প্লট ফরমে থাকলেও সূত্র জানায়, বিএনপির আমলে বিএনপির সাথে জড়িত থাকা এই নেতার সাথে জাতীয় পার্টির সাথেও সুসম্পর্ক রয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তবে শামীম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়ে মহাজোটের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।

 

ময়মনসিংহ সদর আসনটিতে মহাজোটের প্রার্থী হতে জাপা নেত্রী রওশন এরশাদ অনঢ় অবস্থানে থাকায় এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অন্য কোন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেননি। অথচ জানা যায়, ১৬ জন নেতা আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী হন।

 

আওয়ামী লীগ অনানুষ্ঠানিক ভাবে ২৩৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও আসন সমঝোতার অপেক্ষায় সদর আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করেনি। মহাজোটের প্রার্থীও কৌশলগত কারণে ঘোষনা করা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সূত্রগুলোর মতো সদর আসনে রওশন এরশাদকে ছাড় দিতেই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়নি।
সে অবস্থায় জেলা সদরের আসরে জনপ্রিয়তার শীষ অবস্থানে থাকা সাবেক এমপি ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও তার ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত এবং স্বাচিপ মহাসচিব ডা: এম এ আজিজ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

 

অথচ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম দল বা মহাজোটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক শামীম স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবেন কিনা সেটিই দেখার বিষয়। আর মহাজোটে সমঝোতা না হলে শামীমই হবেন মহাজোটের প্রার্থী এমনটাই জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। তবে সমালোচকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শামীম। আর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামীম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে জেলা ব্যাপী। খবর রয়েছে জেলার ১১ আসনের অনেকটিতেই একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

 

রওশন এরশাদ আগে সদর আসন ছাড় দিতে রাজী হন নি। তিনি সদর আসন ছাড় দিবেন কিনা সেই প্রশ্ন নিয়েও এখন জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে।

 

অক্টোবরের শেষ দিকে প্রচার হয়েছিল জাতীয় পার্টির নেত্রীর বদলে শামীমকে সদরে মহাজোটের প্রার্থী করা হবে। জাপা নেতারা সেই প্রচারনাকে গুজব বলেছিলেন। নির্বাচনী রাজনীতিতে শামীম খেলা দেখালেন বলে মন্তব্য করেন তার সমর্থকরা। কেউ কেউ বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে শামীম নির্বাচন করলে তিনি এমপি হবেন, কেননা জাপার সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল, আর বিএনপি তার পকেটে। গত বিএনপি জামায়াত জোট আমলে তিনি জেলা মটর মালিক সমিতি তার করায়ত্ব করেন। এবং রমরমা ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়েছিলেন।

 

সদর আসনে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হলেও জোটের মনোনয়ন প্রশ্নে আওয়ামী লীগের একাংশ ছিল নীরব। তাদের ইন্ধনেই রওশন এরশাদ আসনটি নিয়ে নাছোড়বান্দা হন। সেই সুযোগেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন শামীম। অথচ তার ভাই মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ইকরামুল হক টিটু বুধবার রওশন এরশাদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

অন্যদিকে, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলীয় নেতার ইচ্ছাকে সম্মাণ জানাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত গ্রহনকে চাপের উর্ধে রাখতে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান উদার অবস্থান নেন। এতে আওয়ামী লীগের মধ্যে হতাশা নেমে এলেও তারা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকেই শিরোধার্য মনে করেন। এখন দেখার বিষয় দলীয় সভানেত্রীর দেওয়া নীতি-নির্দেশনার বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরোধী সাংগঠনিক কি সিদ্ধান্ত আসে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial