,
সংবাদ শিরোনাম :

শপু হত্যার রহস্য উন্মোচনঃ পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করেছে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

ময়মনসিংহের আকুয়ায় আলোচিত শফিকুল ইসলাম শপু হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করার লোমহর্ষকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন হত্যাকারী দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতি।

 

 

গতকাল ১৩ জুন হত্যাকারী ইতির বাড়ির পরিত্যক্ত পুকুর থেকে শপুর গলিত লাশ উদ্ধার করার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ঘটনার জট খোলতে সক্ষম হয়েছে ডিবি পুলিশ। হত্যাকারী আফরোজা শেখ ইতি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

 

১৪ জুন শুক্রবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ হত্যাকান্ডে ইতির জড়িত থাকা ও স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

ঘটনার বিরবনে জানা যায়, নিহত শফিকুল ইসলাম শপু প্রথম স্ত্রী মাহমুদার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করায় দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

নিহত শপুর প্রথম স্ত্রী মাহমুদার ঘরে একটি পুত্র সন্তান আছে । সে প্রথম স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতিকে তার পূর্বের স্বামী সন্তান থাকা সত্বেও পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে পূর্বের স্বামীর ঘর থেকে নিয়ে এসে বিয়ে করে । শর্ত ছিল আগের স্ত্রীকে তালাক দিবে শপু । এরপর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী (নিহত আজাদ শেখের বোন ) ইতি কে নিয়ে আজাদের বাড়িতে বসবাস করে থাকে শপু। কিন্তু প্রথম স্ত্রী কে তালাক দেয় না। গোপনে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে এ নিয়ে শপুর প্রায়সময় বকবিতন্ডা হয়।

 

 

 

আজাদ হত্যার পর ভিকটিম শফিকুল ইসলাম শপু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির সাথে আগের মত ব্যবহার না করে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বেশি রাখে । এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । সে সিদ্ধান্ত নেয় কিছু একটা করবে। ঘটনাচক্রে ১০ জুন গোপনে প্রথম স্ত্রী বাড়িতে গিয়ে তার স্বামীকে দেখতে পায় ইতি । ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিকল্পনা করে কিছু একটা করবে।

 

 

শফিকুল ইসলাম শপু ওইদিন আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আসে । বিকেলে পাশের মোড়ে খেলা দেখে রাত অনুমান ১২ টার দিকে বাসায় এসে প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ওড়না দিয়ে স্বামীর গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে । ভোর রাতে বিছানার চাদর দিয়ে পেচিয়ে টেনে নিয়ে পাশের সেই পরিত্যক্ত পুকুরে নিয়ে পায়ে লাথিয়ে কচুরির নিচে লাশ গুম করে আসে ।

 

 

 

এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় আফরোজা শেখ ইতি ও তার ভাইকেসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে মামলা হয়। পরে ১৩ জুন ঘটনার অধিকতর তদন্তে ডিবি পুলিশের এসআই মোঃ মনিরুজ্জামানকে তদন্তকারী অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৪ জুন বেড়িয়ে আসে শপু হত্যার মূল রহস্য।

 

 

তবে “নিহত শপুর লাশ উদ্ধার হলে হত্যাকান্ডটিকে ভিন্নদিকে ঘুরাতে বিভিন্ন মিডিয়ায় আজাদ হত্যা মামলার আসামীদের দিকে আঙ্গুল তোলা হয়”। এক্ষেত্রে “মিডিয়ায় নিহত আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবার বক্তব্য তুলে ধরা হয়”। নিহত আজাদ শেখের বোন হত্যাকারী ইতির স্বীকারোক্তিতে সত্য ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে মন্তব্য এলাকাবাসীর।

 

 

উল্লেখ্য ময়মনসিংহ নগরীর বাশবাড়ী কলোনির সুরুজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম শপু ১০ জুন নিখোজের পর ১৩ জুন দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পরিত্যক্ত পুকুর থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রাখায় দ্বিতীয় স্ত্রীর হাতে হত্যার স্বীকার হলেন স্বামী। আদালতে দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বীকারোক্তি।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial