Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব «» আজ ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী : গুণীজন সম্মাননা ‘২০১৯ পাচ্ছেন ১৩ গুণী ব্যক্তিত্ব «» অস্ত্র চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি মানিক গ্রেফতার «» ডাকসু’র জিএস ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাঃ সম্পাদক রব্বানী’র জন্মদিনে বাকৃবি শাখার দৃষ্টিনন্দন আয়োজন «» কলমের স্বপ্নভঙ্গ- ৭১’এর মতো আরেকটি যুদ্ধ করতে হবে, তরুণ প্রজন্ম তৈরি থেকো- ফ্যাক্ট রোহিঙ্গা «» অক্সিজেনের ফ্যাক্টরিতে আগুন : আমাজন জঙ্গল «» পরিচ্ছন্ন নগরী চাই, ডেঙ্গু মুক্ত জীবন চাই «» ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর চাই না «» বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কিছু সময় «» রিতুকে ফিরে পাওয়ার আকুতি ; সন্ধান চাই

ডেঙ্গু মহামারি : সাবধানতা ও করণীয়

শরাফত আলী শান্ত :  রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত ২০ দিনে কুষ্টিয়া, পাবনা, চাঁদপুর, রংপুর, সিলেট ও রাজশাহী—এই চারটি জেলা এবং খুলনা বিভাগ মিলিয়ে অন্তত ২৩৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ অবশ্য ঢাকা থেকে ওই সব এলাকায় গিয়েছে।

 

সরকারি হিসাবে কুষ্টিয়া জেলায় গত ২০ দিনে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোসা. নূরুন নাহার গণমাধ্যমকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

 

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গত চার দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন চিকিৎসা পরামর্শ কেন্দ্র ও বেসরকারি হাসপাতালে আরও ১৭ জন মিলিয়ে জেলায় অন্তত ২৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এদের সবাই ঢাকা ফেরত বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

 

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক তথ্যসূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ১০ জন ঢাকায় অবস্থানকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে বেড়া উপজেলার চরাঞ্চল থেকে দুজন রোগী এসেছে।

 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, ৭ জুলাই থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২৭ জন শনাক্ত হয় গত চার দিনে।

 

খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার পর্যন্ত খুলনা জেলায় ৩৮ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়। এই রোগীদের বেশির ভাগই ঢাকা থেকে খুলনায় এসেছে।

 

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৩ জন এখন পর্যন্ত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। গতকাল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ছিল। এর আগে আরও ১১ জন চিকিৎসা নিয়ে গেছে।

 

চাঁদপুর শহর ও আশপাশের উপজেলাগুলোয় গত ২০ দিনে ৪৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তারা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

 

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সুলতান আহমেদ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের সবাই ঢাকা থেকে এসেছে।

 

বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আট বছরের এক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বর্তমানে দেশে ডেঙ্গুর প্রভাব খুব বেশি। তবে ডেঙ্গু বা অন্য কোনো জ্বর হলেই যে চিকিৎসকের কাছে ছুটতে হবে বা ওষুধ খেয়ে কমাতে হবে, ব্যাপারটি তা নয়। বেশির ভাগ জ্বরই ভাইরাসজনিত, যাতে কোনো ওষুধ লাগে না। এমনিতেই পাঁচ থেকে সাত দিন পর সেরে যায়। আবার বড়দের জ্বর হলে এক রকমভাবে তা মোকাবেলা করতে হবে, ছোটদের ক্ষেত্রে করতে হবে একটু অন্য রকমভাবে।

 

বয়স্কদের ক্ষেত্রে

❏ জ্বর হওয়ার প্রথম তিন দিন শুধু সঠিক পরিমাণে প্যারাসিটামলজাতীয় ট্যাবলেট খান। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামলের পরিবর্তে এনএস এইড বা ব্যথানাশক ওষুধ যেমন—আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

 

❏ একেবারে প্রথম থেকেই শরীরে যেন তরলের জোগান ঠিক থাকে সে জন্য তেষ্টা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।

 

❏ জ্বরের সময় বিশ্রাম নিলে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা কমে এবং রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে বা জ্বর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ বিশ্রামে চলে যান। এই সময় কোনো ধরনের কায়িক পরিশ্রম করবেন না বা শরীরের ওপর কোনো চাপ দেবেন না।

 

❏ যাঁরা ডায়াবেটিস, হার্ট, কিডনি, লিভার বা অন্য জটিল অসুখে ভুগছেন বা আগেও কখনো ডেঙ্গু হয়েছে, তাঁরা খুব সাবধানে থাকুন।

 

❏ রাতে এসির ব্যবহার কমিয়ে দিন। ঘর ঠাণ্ডা হওয়ার পর এসি বন্ধ করে ঘুমাতে যান।

 

❏ দাঁতের মাড়ি, মল বা মূত্রের মধ্য দিয়ে রক্তপাত হলে খুব সাবধান হোন। রোগীর প্লাটিলেট কাউন্ট কমে গেলেই তেমনটা হয় সাধারণত।

 

❏ কারো ডেঙ্গু হলে মশারি ব্যবহার করে রোগীকে আলাদা রাখুন। এতে অন্যরাও রক্ষা পাবে।

 

❏ যদি মনে হয় পরিস্থিতি ক্রমেই নাগালের বাইরে যাচ্ছে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন বা হাসপাতালের দ্বারস্থ হোন।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে

 

❏ জ্বরের সময় পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দুধ পান করে এমন শিশুদের ঘন ঘন মায়ের দুধ চুষতে দিন। এ সময় দুগ্ধবতী মাকেও সাবধানতার সঙ্গে চলাফেরা ও খাওয়াদাওয়া করতে হবে।

 

❏ হালকা গরম পানিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে গোসল করাতে পারেন।

 

❏ শিশুর ওজন ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপ বা ট্যাবলেট খাওয়ান। ছোট শিশুকে সর্দি-কাশির সিরাপ, যাতে জ্বর কমানোর উপাদান আছে, তা সেবন করানো উচিত নয়। এতে জ্বরের ওষুধের ‘ওভার ডোজ’ হয়ে যেতে পারে।

 

❏ শিশুর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক (১৮ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখুন। জানালা খুলে রাখুন, যথেষ্ট বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। প্রয়োজনে ফ্যান ছেড়ে দিন।

 

❏ অতিরিক্ত কাপড়চোপড়, কাঁথা বা চাদরের প্রয়োজন নেই। বিশেষত, মাথা ঢেকে রাখবেন না, কারণ ছোট্ট শিশুদের তাপ মাথা থেকেই বেশি নির্গত হয়।

 

❏ জ্বরের সময় খেলাধুলা বা অত্যধিক পরিশ্রম পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial