Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব «» আজ ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী : গুণীজন সম্মাননা ‘২০১৯ পাচ্ছেন ১৩ গুণী ব্যক্তিত্ব «» অস্ত্র চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি মানিক গ্রেফতার «» ডাকসু’র জিএস ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাঃ সম্পাদক রব্বানী’র জন্মদিনে বাকৃবি শাখার দৃষ্টিনন্দন আয়োজন «» কলমের স্বপ্নভঙ্গ- ৭১’এর মতো আরেকটি যুদ্ধ করতে হবে, তরুণ প্রজন্ম তৈরি থেকো- ফ্যাক্ট রোহিঙ্গা «» অক্সিজেনের ফ্যাক্টরিতে আগুন : আমাজন জঙ্গল «» পরিচ্ছন্ন নগরী চাই, ডেঙ্গু মুক্ত জীবন চাই «» ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর চাই না «» বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কিছু সময় «» রিতুকে ফিরে পাওয়ার আকুতি ; সন্ধান চাই

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর চাই না

শরাফত আলী শান্ত:  বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াল হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো হয় ভয়ংকর গ্রেনেড হামলা। সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতারা অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন, তবে হামলায় নিহত হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন তখন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমান। আহত হন শেখ হাসিনাসহ ৩৩৮ জন দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থক, কর্তব্যরত সাংবাদিক, পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী। শেখ হাসিনার বাঁ কানের শ্রবণক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।তাঁদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাঁদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। সেদিন আহত ঢাকার তত্কালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্প্লিন্টারবিদ্ধ ব্যক্তিরা এখনো যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে।

 

সেদিন বিকেলে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদের গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের মূল নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে দেশের জন্য তা এক ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হতো।

 

হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এটা দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করা।

 

কিন্তু আমাদের মনে আছে, ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পক্ষ থেকে এমন অবিশ্বাস্য কথাও প্রচার করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ নিজেরাই জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন পেতে ওই গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, গ্রেনেড হামলা এমনভাবে করা হয়েছে যেন শেখ হাসিনা বেঁচে যান এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে একটি বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা যায়।

 

২০০৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদেও জোট সরকারের সাংসদেরা ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে ব্যর্থ হয়ে এখন নৈরাজ্যের মাধ্যমে তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় যেতে চায়। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ঘটানো হয়েছে। তখন বিএনপি ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করেছিল।

 

২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের পর দলটির পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে পুলিশ সেই মামলা নেয়নি। বরং পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এজাহার সাজানো হয় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের পরামর্শে। জঙ্গিরা বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে—এটা জানা থাকা সত্ত্বেও এ হামলার পেছনে জঙ্গিরা থাকতে পারে সে রকম বক্তব্য ছিল না সাদামাটা ওই এজাহারে। এরপর তদন্তের সময় ‘জজ মিয়া নাটক’ও সাজানো হয়।

 

গ্রেনেড হামলার পরদিন ২২ আগস্ট সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মতিঝিল থানার তত্কালীন উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ ফারুক আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (পূর্ব) তত্কালীন উপকমিশনার মো. ওবায়দুর রহমান ঘটনায় নিহত বা আহতদের আত্মীয়-স্বজনের এজাহার না নিয়ে পুলিশকে বাদী করিয়ে মামলা লিপিবদ্ধ করান বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে এমন কথা উল্লেখ করা হয়।

 

এসআই শরীফ ফারুক আহম্মেদের এজাহারে বিস্তারিত ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর দায়ের করা মামলায় বলা হয়, তিনি ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য যান। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্য শেষ করে ট্রাক থেকে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে কে বা কারা ট্রাকের পাশে গ্রেনেড বা বোমা নিক্ষেপ করে। নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড বা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে সমাবেশস্থলের কয়েকজন মারাত্মক জখম হয়। তাত্ক্ষণিক সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের তত্ত্বাবধানে শেখ হাসিনা সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। এরপর ওই সমাবেশের চারদিকে আরো সাত-আটটি গ্রেনেড বা বোমা নিক্ষেপ করলে সমাবেশের মধ্যস্থলে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়। সেখানে বহু লোকজন মারাত্মক জখম হয়। উপস্থিত পুলিশ লোকজনের সহায়তায় আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালেও আহতদের নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে কিছু পুলিশ সদস্যও আহত হন। এজাহারে আরো বলা হয়, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আরো পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। রমনা পেট্রল পাম্পের পাশে থেকে একটি গ্রেনেড পেয়ে এসআই মনির তা জব্দ করেন। ঘটনাস্থল থেকে ছিন্নভিন্ন কাপড়চোপড়, জুতা-স্যান্ডেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

 

এসআই শরীফ এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি সংবাদ পান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন ও শেরেবাংলানগর পঙ্গু হাসপাতালে তিনজন মারা গেছে। তাদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন তিনি।

 

এজাহারে এসআই শারীফ আরো উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই গ্রেনেড বা বোমা হামলা করেছে। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাও আহত হন, মারাত্মক জখম হন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। তাঁরা ছাড়ও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা আহত হন এ ঘটনায়। কিন্তু তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি এজাহারে। এমনকি সমাবেশে কোন কোন নেতা উপস্থিত ছিলেন তাও বর্ণনা করা হয়নি এজাহারে।

 

শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য এর আগেও কয়েকবার হামলা করে হরকাতুল জিহাদ। অথচ এজাহারে জঙ্গি হামলাকে সন্দেহ করাও হয়নি। শুধু কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই উদ্ধার করা তাজা দুটি গ্রেনেড ধ্বংস করা হয়। অথচ এজাহারে তা উল্লেখ করা হয়নি।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিতে যে ভয়াবহতার চিত্র উঠে আসে, মামলার এজাহারে তা ছিল না। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা গ্রেনেড ছিল আর্জেস গ্রেনেড, তাও এজাহারে বলা হয়নি। ওই দিন ঘটনাস্থলের আশপাশে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়নি। তখনকার প্রশাসনের নির্দেশেই এসব বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়।

 

চারদলীয় জোট সরকারের গঠিত এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় কমিশনের প্রধান বিচারপতি জয়নুল আবেদীন (তখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে কর্মরত) তাঁর প্রতিবেদনে প্রায় একই কথা বলেছিলেন। মাত্র ৪০ দিনের অনুসন্ধানে প্রস্তুত সেই তথাকথিত তদন্ত প্রতিবেদনে সেসব মনগড়া তথ্য-ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়েছিল, যা জোট সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা বলেছিলেন।

 

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশবাসীকে এটা বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেছিল যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছে। কলকাতায় পলাতক শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নেতৃত্বে এই গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল। চারদলীয় জোট সরকার ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ওই সব মিথ্যা তথ্য জোট সরকারের সমর্থক পত্রপত্রিকায় প্রচারও করা হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমর্থক লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা সভা-সেমিনারে একই সুরে বক্তব্য দিয়ে, পত্রিকায় কলাম লিখে সেই মিথ্যা প্রচারে সহায়তা করেছিলেন।

 

বিএনপির নেতৃত্ব এই মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন যে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতের বসিরহাট থেকে গ্রেনেড এনেছিল ঢাকার বাড্ডার সন্ত্রাসী মুকুল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার রাজধানীর মগবাজারের আওয়ামী লীগের নেতা মোখলেসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে বের হয়ে সাংবাদিকদের জানান, সিআইডির কর্মকর্তারা তাঁকে রাজসাক্ষী বানানোর কথা বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য চাপ দিয়েছিলেন।

 

একইভাবে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে ২০০৫ সালের জুন মাসে জজ মিয়া নামের এক যুবককে নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই জজ মিয়াকে দিয়ে সিআইডি তখন আদালতে কথিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে। তাতে নাকি জজ মিয়া বলেছিলেন, টাকার বিনিময়ে সুব্রত বাইনের পরিকল্পনা ও নির্দেশে তিনি নিজেসহ ১৪ জনের একটি দল এই গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন। ওই জবানবন্দিতে জজ মিয়া বলেছিলেন, এর আগে তিনি গ্রেনেড কী জিনিস চোখে দেখেননি। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে খালি জায়গায় বসে কীভাবে গ্রেনেড ছুড়তে হয়, কীভাবে হামলা করতে হবে, তা সুব্রত বাইনরা বলে দিয়েছিল এবং সেভাবে হামলা করা হয়েছিল। অবশ্য পরে জজ মিয়ার মা ও বোন সাংবাদিকদের জানান, জজ মিয়াকে রাজসাক্ষী সাজানোর ঘটনায় সিআইডি ভূমিকা পালন করেছিল। এই সংস্থার তৎকালীন এক বিশেষ পুলিশ সুপার তাঁদের পারিবারিক খরচ চালানোর জন্য প্রতিমাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতেন। জোট সরকারের শেষ দিকে এসব তথ্য ফাঁস হয়ে যায় ।

 

তখন গণমাধ্যমে জজ মিয়ার কাহিনিকে ‘আষাঢ়ে গল্প’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল । সে সময়ে নানাভাবে বিএনপি সরকারের নেতারা  বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, কীভাবে সীমান্তের ওপার থেকে পরিকল্পনা হয়েছে, কীভাবে সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও তার সঙ্গীরা এই গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে, তা তাঁরা প্রমাণ করে দেবেন। অবশ্য সেটা আর প্রমাণ করতে পারেননি তাঁরা; বরং সত্যকে লুকিয়ে রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সত্য লুকিয়ে রাখতে পারেননি।

 

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসায় পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ওই বছরের আগস্টে নতুন করে ২১ আগস্ট মামলার তদন্ত শুরু হয়। নেপথ্যের অনেক তথ্যই বেরিয়ে আসতে থাকে। তখন এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে যায় যে জোট সরকার জেনেশুনে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনা এবং উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী ও প্রকৃত আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল।

 

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ নতুন করে তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। তাতে বিএনপির নেতা তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরো অনেক ব্যক্তি জড়িত আছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

অথচ ঘটনার পরদিন ২২ আগস্ট আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ও তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন। এই দুটি এজাহারে ওই দিনের লোমহর্ষক ও নৃশংসতম ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। অথচ ওই দুটি এজাহার পুলিশ নেয়নি।

 

গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত আওয়ামী লীগ নেত্রী সাহারা খাতুন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে পরের মাসে অর্থাত্ ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, মতিঝিল থানায় তিনি মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত ওই মামলাটি তদন্ত করার জন্য মতিঝিল থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।

 

সাহারা খাতুন গ্রেনেড হামলা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানান, তাঁর দায়ের করা মামলার কোনো তদন্ত হয়নি। কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তিনি বলেন, তাঁর মামলায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ছিল। কারা আহত হয়েছিল, কারা নিহত হয়েছিল তা বলা ছিল মামলার আরজিতে। কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করলেও শেখ হাসিনাকে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, তা এজাহারে উল্লেখ ছিল।

 

র আগে ২০০১ সালের ৩০ মে খুলনায় রূপসা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি জঙ্গিরা। অনুষ্ঠানের তিন দিন আগে ২৭ মে সেতুর কাছাকাছি রূপসা নদীতে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১৫ জঙ্গি ধরা পড়ে যাওয়ায় সেটিও ব্যর্থ হয়। এই ১৫ জনের একজন মাসুম বিল্লাহ ওরফে মুফতি মইন ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নিয়েছিল।

 

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন গত বছরের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় মদদে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়।

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মূল ঘটনার আগে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে ও তারেক রহমানের অফিস হিসেবে পরিচিত বনানীর হাওয়া ভবনে এ মামলার আসামিরা অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সভা করেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন আর্জেস গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে জখম করে।

 

মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে স্পষ্ট হয়, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান ও সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান পরস্পর যোগসাজশে গ্রেনেড হামলাকারীদের প্রশাসনিক সহায়তা দিয়েছেন।

 

মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এই মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমানকেও সাজা দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের রক্ষার অভিযোগে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়।

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়, পুলিশ প্রশাসন জানত আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হবে। তাই এজাহারে কারা হত্যাকারী তা স্পষ্ট না করাটা অবশ্যই অনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial