Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

,
সংবাদ শিরোনাম :
«» করোনাকালীন মানবিক যোদ্ধাদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন করবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব «» বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন, ময়মনসিংহের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা «» কেমন আছে আমাদের সাংবাদিকঃ একেএম ফখরুল আলম বাপ্পী চৌধুরী «» ময়মনসিংহ ডিবি’র বিশেষ অভিযানে ১১০ পিস ইয়াবাসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার «» ময়মনসিংহে ডিবি’র বিশেষ অভিযানে ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৬ জন গ্রেফতার «» ময়মনসিংহের গোয়েন্দা পুলিশ ১৫১ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে «» বিএনপির সন্ত্রাসীরা পাগলা থানা এলাকায় যুবলীগ লীগ নেতার জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে «» সাবেক ধর্মমন্ত্রী’র কন্ঠ নকল করে অর্থ আত্মসাৎকারী সেই প্রতারক আবারও গ্রেফতার «» কোভিড-১৯ ও সাইবার সচেতনতাঃ ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্টার মোঃ হারুন অর রশিদ «» ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরো ৯ জনকে আটক করে ময়মনসিংহ ডিবি

প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শনে আসা উপলক্ষ্যে পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদেরকে নির্যাতন করে শারীরিক কসরত

মাটি ও মানুষ: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের পরিদর্শনে আসা উপলক্ষ্যে  তিন দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রেখে  দীর্ঘসময় শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরতসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্লান্ত শিক্ষার্থীদের লাইন সোজা করতে দেরি হওয়ায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গত মঙ্গলবার পেটানো হয় বলে অভিযোগ। এক দিন যেতে না যেতে গতকাল বুধবারও তাকে পেটানো হয়। ছেলেটি এখন প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

মো. রুহানুল ইসলাম নামে ওই শিক্ষার্থী বলে, ‘ড্রিল করার সময় লাইন বড় হয়েছিল। আমি বুঝতেই পারি নাই যে আরেকটা লাইন করা লাগবে। তখন হেড ম্যাডাম এসে আমাকে মারল।’

রুহানুলের মা রুনু তালুকদার বলেন, ছেলেটিকে খুবই পেটানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন তাঁর ছেলের মাথায় পানি ঢালেন। পরে ক্লিনিকে নেওয়া হয়।

এর আগে গত বছরের ২৮ নভেম্বর বিদ্যালয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব পরিদর্শন করেন। এ জন্য প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখে শারীরিক কসরত শেখানো হয় বলে অভিযোগ। সে সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অভিভাবকদের কেউ মুখ খোলেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসবেন। এ জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে বিদ্যালয় সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শারীরিক কসরত প্রদর্শনের জন্য প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। তিন দিন আগে থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে চলে। তবে গতকাল বুধবার সকালে শুরুর দুই ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের বাইমহাটী গ্রামের পালপাড়া এলাকায় একটি খেতে প্রশিক্ষণের জন্য নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, খেতটিতে শিক্ষার্থীদের দেখভালের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা রয়েছেন। কয়েকজন অভিভাবক দূর থেকে দাঁড়িয়ে সন্তানদের দেখছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে খেতে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রসঙ্গে এক শিক্ষক বলেন, ‘তুলসীপাতা দিয়্যা স্কুল ধুইয়ে দিব, তাই।’

 

অভিভাবকদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে ভুল হলে বেত দিয়ে পেটানো হয়। প্রধান শিক্ষক ‘তুই-মুই’ করে গালমন্দ করেন। প্রধান শিক্ষকের ভয়ে অনেকে ঠিকমতো খায়ও না। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে রাত নয়টার আগে বাড়িতে যেতে দেওয়া হয় না।

 

পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী জানায়, সারা দিন সেখানে থাকতে হচ্ছে তাদের। সকালে কেউ খেয়ে আসে, কেউ না খেয়ে। দুপুরে কিছু সময় খাওয়ার জন্য বিরতি দেওয়া হয়। অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানের জন্য খাবার নিয়ে আসেন।

কত শিক্ষার্থী শারীরিক কসরত প্রদর্শনের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাইলী বেগম বলেন, ‘দেখতেছেনই তো।’ সরেজমিনে প্রায় দেড়’শ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে।

এর আগে সচিবের আগমনের সময় শিক্ষক লাইলী বেগম জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে নানা ধরনের শারীরিক কসরত প্রদর্শন করা হবে। এ জন্য ড্রিলে ১২০ জন, সাইকেল শোভাযাত্রায় ৪০, প্যারেডে ১২ আর নাচে ৮ থেকে ১০ জন করে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এবারও একইভাবে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, প্রতিমন্ত্রী আসার খবরটি তিনি জেনেছেন। কিন্তু তাঁর আগমনে বিদ্যালয়ে কী করা হচ্ছে, তার কিছুই তিনি জানেন না।

তিন দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরতসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শেখানো হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা দাবি করেন, ‘আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতাছি না। পাঠদান কার্যক্রম করতাছি। ওগলা পড়ার মধ্যে। ৭০ জন আছে। সব পাঠদান কার্যক্রমের ওপরে। সব সমাজ বইয়ের পড়ার ওপরে।’

সমাজ বই কতক্ষণ পড়তে হয়, প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘কী জানি রে ভ্যাই। আমি এত কিছু কইয়্যা হারুম না। পরে কতা কমুনি।’ আপনি সকাল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরত করাচ্ছেন, বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘আমি তো বাচ্চারে শিখাইতাছি। বাচ্চাগো কাজ করাইতাছি। আমার যা দায়িত্ব, আমি তাই পালন করতাছি। আমার কাজ শিক্ষা দেওয়া। আমি শিক্ষক হিসেবে বাচ্চাদের শিক্ষা দিচ্ছি।’ গণমাধ্যমকর্মীরা ছাত্রকে মারপিটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলেনি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও খুব বিরক্ত। স্কুলটিতে প্রোগ্রাম কমিয়ে দেওয়া উচিত। বছরে একটি প্রোগ্রাম হতে পারে। এত ঘন ঘন প্রোগ্রাম করলে বিপদ।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial