,
সংবাদ শিরোনাম :
«» ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাসচাপায় ৭ জন নিহত «» `ভারতের সাথে রক্তের সম্পর্ক, চীনের সাথে অর্থনৈতিক’- মেহেরপুরের মুজিবনগরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী «» বরগুনায় সিফাতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ, আহত ৩ «» গাইবান্ধায় পুকুরে ও নদীতে ডুবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে «» করোনাকে হারাতে সক্ষম ভ্যাকসিন তিন দিনের মধ্যেই আসছে বাজারে রাশিয়ার দাবি! «» ‘সিনহার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ সরকার হটানোর দিবাস্বপ্ন দেখছে’ «» পাকিস্তানের নতুন মানচিত্র নিয়ে ইমরানের সাবেক স্ত্রীর কটাক্ষ: ‘আমার তো দিল্লিও চাই’ «» সিনহার মৃত্যু বিচ্ছিন্ন ঘটনা, দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় না ধরার আশ্বাস: যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই বাহিনীর প্রধান «» স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে হাসপাতালগুলোতে অভিযান পরিচালনার অনুরোধ «» টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মামা বাড়ি বেড়াতে এসে ভাই-বোনের মৃত্যু

সাংবাদিক আলহাজ্ব আশিক চৌধুরী’র মৃত্যু এক অপূরণীয় শূন্যতা

স্মরনে এম.এ কাশেম সরকার (তারাকান্দা প্রতিনিধি): ময়মনসিংহ থেকে দুঃসংবাদ। খ্যাতনামা সাংবাদিক প্রিয়জন আলহাজ্ব আশিক চৌধুরী আর নেই। অকাল মৃত্যু ক্রথিত যশা এ সাংবাদিকের কলমকে আজ স্তব্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তার কলম কথা বলবে শুদ্ধ সাংবাদিকতার ইতি কথা। ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তার অবস্থান স্বকীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। দায়িত্বশীলতা ও সাহসী সাংবাদিকতায় তার ভূমিকা অবষ্মরনীয়।

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন আশিক চৌধুরী। তার মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। দুপুরে তার মৃতদেহ প্রেসক্লাব চত্তরে আনা হয়। শোকাবহ পরিস্থিতে ময়মনসিংহের মিডিয়া কর্মীরা শেষ বারের মতো একনজর দেখতে গিয়ে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।

 

অশ্রুসজল চোখে প্রিয় সহকর্মীকে বিদায় জানাতে এসে সবাই আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন। ফুল আর শ্রদ্ধায় শিক্ত হয়ে অন্তিম যাত্রায় বিদায় নিলেন আশিক চৌধুরী। পেছনে পড়ে রইল তার স্মৃতি, কীর্তি। ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার পুরাকান্দুলিয়া গ্রামের এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণকারী অশিত দাশ কেশব, তার বাবার নাম রামচন্দ্র দাশ, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কেশব দাশ থেকে আশিক চৌধুরী স-স্ত্রীক হজ্ব পালন করেন কিংবদন্তী আলহাজ্ব আশিক চৌধুরী।

 

সাংবাদিক আলহাজ্ব আশিক চৌধুরী ছিলেন ময়মনসিংহের পরিপূরক, সাংবাদিক গড়ার কারিগর, সুস্থ ধারায় আর্দশ সমুন্বত রাখার ঐতিহ্যে বলিয়ান পত্রিকা এবং সৎ সাহসী সাংবাদিকের আর্দশের প্রতি আপোশহীন। আশিক চৌধুরী সর্ব মহলে সমাদৃত। ময়মনসিংহ বাসীর কাছে তিনি ছিলেন, মাটি ও মানুষ সহ একাধিক পত্রিকার কলামিষ্ট। আশিক চৌধুরীর মৃত্যু এক অপূরনীয় ক্ষতি।

 

ময়মনসিংহের মিডিয়া জগতে এ শূন্যতা অমোচনীয়। প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক আশিক চৌধুরী, অন্যায়, অসত্য, অসুন্দরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। প্রগতিশীল চিন্তাধারা ও চেতনা লোকে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। সাংবাদিকতাকে পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে চর্চা করতেন। সাংবাদিকের ভূমিকায় তিনি ছিলেন সচেতন এবং দ্বিধাহীন। তাই অপ্রিয় সত্যের প্রকাশে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। আপোষ নয় স্বীয় প্রতিবাদ মিশ্রনের প্রতি আস্থাশীল বলে প্রচন্ড আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন তিনি।

 

প্রতিবাদী স্বত্বা কখনো তাকে কারো কাছে অপ্রিয় করলেও তিনি নিজের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতেন। সাংবাদিকতা পেশাগত দৃষ্টিকোন থেকে স্রোতের প্রতিক‚লতা এ প্রতিবাদী মানুষটি কখনও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেও অসংকোচ প্রকাশ করেননি।

 

গত ৪ দশক ধরে ময়মনসিংহের সাংবাদিকতায় তিনি নিরবে বিনির্মাণ করেছিলেন স্বকীয় ভাবমূর্তি। প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিক সংঘঠনের তার নেতৃত্ব ছিল বলিষ্ঠ এবং অগ্রণী। সুদীর্ঘ সময় ধরে ময়মনসিংহের সময়কে তিনি সাংবাদিকতার ক্যানভাসে ক্রথিত করে গেছেন। অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে, সাংবাদিকতার দায়-দায়িত্বের স্বপক্ষে তার নেতৃত্ব ছিল সহজাত ও সাবলিল। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তিনি সাংবাদিকতার ও প্রেসক্লাব নিয়ে সক্রীয় ছিলেন। তার প্রতিকৃতি ছিল আপাদমস্তক একজন পেশাদার সাংবাদিকের।

 

সাংবাদিকতা তার রাগী ইমেজের কারনে তিনি বিভিন্ন মহলে ছিলেন আলোচিত-সমালোচিত। কিন্তু অন্তরঙ্গ আলোকে যারা তার সঙ্গে মিশেছেন তারা জানেন, মুক্তবুদ্ধি, প্রগতিবাদী ও স্পষ্টভাষী এ মানুষটি ছিলেন অমায়িক বড় ভালো লোক। তার বক্তব্য, প্রশ্নবান ও নীতিগত অবস্থান অনেককে অনেক সময় মনোকষ্ট দিয়েছে হয়তো আবার পরে তাদের কেহই তার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাননি। ব্যক্তিত্ব সচেতন আশিক চৌধুরী ছিলেন, সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব।

 

দৈনিক মাটি ও মানুষ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আলহাজ্ব আশিক চৌধুরী ছিলেন ময়মনসিংহের পরিপূরক। গণমাধ্যম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ), ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্মৃতি, দৈনিক ভূমন্ডল, সাপ্তাহিক ব্র‏হ্মপুত্র, দৈনিক আজকের খবর ও নিউজ পোর্টালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক মুক্তকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি হয়েও কাজ করেন তিনি। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক মাটি ও মানুষ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

 

মৃত্যু জীবনকে বিমূর্ত, করে কিন্তু আদর্শ থেকে যায়। আশিক চৌধুরী আজ নেই কিন্তু সংবাদ জগত এ তারকা সাংবাদিককে ভুলবে না। আমাদের প্রিয় আশিক ভাই (চৌধুরী ভাই) আর কোন দিন ‘‘খবরের জন্য, খবর নিয়ে ব্যাতি ব্যস্ত থাকবেন না’’ কিন্তু তার শূন্যতা থাকবে খবরের পাতায়, প্রেসক্লাবের প্রেস কনফারেন্সে। এ বরেণ্য সাংবাদিক সমাজ ও সময়কে দিয়ে গেছেন অনেক। দিয়েছেন তার শ্রম, মেধা, সেবা। বিনিময়ে কি পেয়েছেন তিনি, কি দিয়ে গেছেন তার পরিবারকে? সৎ জীবন যাপন করেছেন তিনি, কিছুই রেখে যাননি তিনি পরিবারের জন্য। আজীবন তিনি স্বপ্নদেখে গেছেন মুক্তি সাংবাদিকতার মাধ্যমে নতুন সমাজ বি-নির্মানে। তিনি লড়াই করে গেছেন ন্যায় ও সত্যের সমর্থনে। পেশাগত সাংবাদিক হিসেবে তার আমৃত্যু ভূমিকা সমৃদ্ধ করেছে ময়মনসিংহের মিডিয়া জগত।

 

সমাজ, দেশ, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অস¤প্রদায়িক মূল্যবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে, জীবনে কখনো স্বীকৃতি আর প্রাপ্তির পিছনে তিনি ছুটেননি। প্রাপ্তি শূন্যতার সমীকরনে কখনো হতাশ দগ্ধ হননি এ আশাবাদী মানুষ। তার মৃত্যু সংবাদ খবর জগতের বাইরেও সাধারণ মানুষের মনে শোক-দুঃখ এনে দিয়েছে। শোক হয়তো এক সময় কেটে যাবে। দিন-রাত আশে যায়, সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। আর্বতিত পৃথিবীতে কালের মাঝে মানুষ মরণশীল। তবু থেকে যায় কিছু চিত্রাবলী, কিছু বক্তব্য, কিছু স্মৃতি, সেগুলো কখনো হারায় না। অম্লান হয়ে থাকে। ফুটে থাকে শতদল হয়ে। সাংবাদিক আলহাজ্ব আশিক চৌধুরী আজ সেই স্মৃতি। সেই স্মৃতির ফুল থকে সুরভি ছড়াবে অর্হনিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial