,
সংবাদ শিরোনাম :
«» শান্তর আগমনে নেতাকর্মীরদের জন স্রোত; বোররচরে উপ-নির্বাচনে নৌকার জনসভা «» ধর্ষণসহ সকল নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দেশব্যাপী একযোগে বিট পুলিশিং সমাবেশ «» পর্দার অন্তরালে থেকে যাওয়া একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির আবেদন পরিবারের «» আমির আহমেদ চৌধুরী রতনের মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপির শোক «» ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত, ৩১ জন মহৎ প্রাণ করোনা-যোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান «» ট্রাম্প ভার্চ্যুয়াল বিতর্কে যোগ দিতে রাজি না হওয়ায়, ট্রাম্প–বাইডেনের দ্বিতীয় বিতর্ক বাতিল «» ফেনী জেলায় বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন «» এবছর হচ্ছে না এইচএসসি পরীক্ষা, জেএসসি-এসএসসি’র ভিত্তিতে ফল – শিক্ষামন্ত্রী «» বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী প্রকাশে ইতিহাস বিকৃত থেকে রক্ষা পেয়েছে জাতি : প্রধানমন্ত্রী «» ধর্ষণের প্রতিবাদে ফেসবুকে আঁধার নেমে এসেছে

ফেনী জেলায় বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন

মাটি ওমানুষ: অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস। “প্রতিদিন ডিম খাই, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াই“ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনী জেলার সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, পোল্ট্রিী খামারী, পোল্ট্রী ডিলার, খাদ্য ব্যবসায়ী, ভেটেরিনারি ঔষধ কম্পানির প্রতিনিধি ও ইলেক্ট্রট্রোনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্ব ডিম দিবসের আনন্দ র‌্যালী ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তরা ডিমের পুষ্টিগুন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তাঁরা বলেন,  রাঁধতে সোজা খেতে ভালো ডিম ছাড়া আর কি বলো। ডিম,দুধ,মাংস স্বাস্থ্যের উৎস। সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ডিমকে মানুষ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার হিসবে গ্রহণ করে আসছে। ডিমের পুষ্টিগুন অনেক তাই ছয় মাসের বাচ্ছা থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত মানুষের খাদ্যে ডিমের সংযোজন অত্যন্ত জরুরী।

 

 

ডিম আমিষের একটি উৎস এবং এর জৈবিক মানও বেশী। একটি ডিমের মোট ওজনের ১২.৪% প্রোটিন। আর এই প্রোটিন ডিমের কুসুম ও সাদা অংশের উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান। কুসুমের প্রোটিন ঘন হলেও সাদা অংশে প্রোটিন থাকে বেশী। তাই প্রোটিন বিবেচনায় ডিমকে আদর্শ একক হিসাবে ধরা হয়। একটি মুরগীর ডিমের (১০০ গ্রাম) মধ্যে ৭৪% পানি, ১২.৪% প্রোটিন,১১.৭% চর্বি, ০.৯% শর্করা, ১.০% খনিজ পদার্থ ও ক্যালরী  বিদ্যমান ১৬৩ । একটি ডিম থেকে (১০০ গ্রাম) একজন পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের দৈনিক শক্তি চাহিদার ৬% ও মহিলার ৮% পূরণ করে। ডিমের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সমূহ দ্রুত শরীরে শোষিত হওয়ায় ডিম একটি স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্য।

 

 

আনেকে প্রশ্ন করেন দেশী মুরগীর ডিম না ফার্মের ডিম ভালো। ফার্মের ডিম খাওয়ার অভ্যাস আমাদের বেশী দিনের নয়। বয়স্কদের অনেকেই এখনো বেশী দাম দিয়ে দেশী মুরগীর ডিম খেতে পছন্দ করেন। অজ্ঞতা হেতু বেশী অর্থ খরচ করলে বেশী পুষ্টি পাওয়া যায় না। অনেকে বলে থাকেন দেশী মুরগীর ডিমে পুষ্টি বেশী কথাটি ঠিক নয়। দেশী ও ফার্মের মুরগীর ডিমের ওজন যথাক্রমে ৩৫-৪০ ও ৫৫-৬০ গ্রাম হয়ে থাকে। দেশী  মুরগীর ডিমের ওজন কম হওয়ায় পুষ্টি মানও অনেক কম। সুতরাং বেশী টাকা খরচ করে দেশী মুরগীর ডিম ক্রয় করার কোন অর্থ হয় না। ডিমের পুষ্টিমান বিচারে দামের সঙ্গে এর একক ওজন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। অনুরুপভাবে ডিমের খোসার রঙ এর সাথে পুষ্টির কোন সম্পর্ক নেই। ডিমের খোসার রঙ মুরগীর বংশগত বৈশিষ্ট্য।

 

 

হাঁসের ডিম ভালো না মুরগীর ডিম এ নিয়ে বির্তকের শেষ নেই। আমরা ডিম খাই মুলত আমিষের জন্য। কিন্তু আমিষের সাথে প্রচুর হজমযোগ্য চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ ডিম থেকে পেয়ে থাকি। হাঁসের ডিমে সালফার সমৃদ্ধ এমাইনো এসিড বেশী থাকায়  অনেক সংবেদনশীল লোকের এত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তা ছাড়া আঁশটে গন্ধের কারণে কিছু কিছু লোক হাঁসের ডিম খেতে চায় না। কিন্তু এ সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণ না হওয়ায় খাবার তালিকা থেকে হাঁসের ডিম বাদ দেয়া উচিত নয়। এলার্জির লক্ষণ ও আঁশটে গন্ধ কোন সমস্যা সৃষ্টি না করলে এবং দাম সমান হলে ডিম সাচ্ছন্দ্যে খাওয়া  যায়, কেননা সম ওজনের মুরগীর ডিম থেকে হাঁসের ডিমের পুষ্টিমান বেশী।

 

 

ডিম কিভাবে খাব কাঁচা না সিদ্ধ না রান্না করে এ প্রশ্নও অনেকের। ডিম কাঁচা এবং রান্না উভয়ভাবেই খাওয়া যায়। তাপ দিলে পুষ্টি কমে যাবে এটা ঠিক নয়। কারণ কাঁচা ডিমে জৈবিক প্রোটিনের মান ৫১% আর রান্না করা ডিমের এর মান ৯১% অর্থাৎ রান্না করা ডিমে হজমযোগ্য প্রোটিনের পরিমাণ কাঁচা ডিমের প্রায় দ্বিগুন। তাছাড়া কাঁচা ডিম খাওয়া উচিত নয় কারণ সেটা জীবনুমুক্ত থাকে না। কাঁচা ডিম খাওয়ার মাধ্যমে সালমোনেলা রোগের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। কাঁচা ডিম খেলে এলার্জি সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ ও ক্ষুধামন্দা দেখা  দিতে পারে। তাই ডিম সব সময় রান্না করে খাওয়া উচিত । কারণ রান্নার তাপে ডিমের সাথে জীবানু ধ্বংসের পাশাপাশি ডিমের খারাপ গুনটি নষ্ট হয়ে আমাদের হজম শক্তি বাড়ায়। রান্না করা ডিম পাকস্থলী থেকে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম নিঃসরনে সাহায্য করে। সর্বপরি রান্না করা ডিম কাঁচা ডিম অপেক্ষা সহজে হজম হয়। এসব কারনে কাঁচা ডিম না খেয়ে রান্না করা ডিম খাওয়া উত্তম।

 

 

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ হওয়া সত্বেও মার্কিন মূলুকের একটি নিত্য সমস্যা পুষ্টি ঘাটতি। মার্কিন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ডিমের কুসুম পারবে সে দেশের পুষ্টি ঘাটতি দূর করতে। ফেডারেশণ অব আমেরিকান সোসাইটি ফর এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিক “ নিউট্রেশন মনিটরিং এন্ড রিলেটেড রিসার্চ ইউনিট” তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, বেশীর ভাগ জনগোষ্ঠির ক্ষেত্রে ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ এবং অনেকেরই ক্যালসিয়াম গ্রহণের ক্ষেতে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

 

 

শুধু তাই নয় এক থেকে দুই বছরের শিশুদের মধ্যে মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে আয়রন, ১৬ বছরের বেশী বয়শী কৃষ্ণাঙ্গ এবং ষাটোর্ধ মেক্সিকান আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ফোলেট (Folate) ) গ্রহণে ঘাটতি থাকছে। তাছাড়া প্রায় সব বয়সী এবং সকল বর্ণের জনগোষ্ঠির ক্ষেত্রে ভিটামিন এ,ই, বি-৬ এবং কপার গ্রহণের ক্ষেত্রে গড়পড়তা ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। মার্কিন পুষ্টিবিদরা দাবী করেন যে, শুধু ডিমের কুসুমই এ ঘাটতি পুরণ করার জন্য যথেষ্ট। কেননা এতে রয়েছে কপার, প্রায় সব ধরনের ক্যালশিয়াম, আয়রন,ফসফরাস,জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ,সেলিনিয়াম,থায়ামিন  ফোলেট,বি-৬,শতভাগ ভিটামিন এ,ই এবং প্যান্টোথেনিক। ডিমের কুসুম চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং বার্ধক্যজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে। ক্যারোটিনয়েড এর সহজ লভ্য একটি উৎস হচ্ছে ডিম এতে রয়েছে সহজেই পাচনযোগ্য লিউটিন (Lutin) এবং জিউজানথিন  (Zeaxanthin) যা চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন ক্যারোটিনয়েড চোখের কালো অংশ গঠন করে এবং বার্ধক্য জনিত ম্যাকুলার ডি-জেনারেশন (Macular degeneration) বা বাধ্যক্যজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।

 

 

ডিমে কোলেষ্টরল আছে, ডিম খেলে রক্তে কোলেষ্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এজন্য অনেক চিকিৎসক ডিম খেতে মানা করেন। অনেকেই হার্ট এ্যাটাক হওয়ার ভয়ে ডিম খেলেও ডিমের কুসুম ফেলে দিয়ে শুধু সাদা অংশটুকু খেয়ে থাকেন। তবে এবার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, “ ডিম হার্টের জন্য ক্ষতিকর” একথাটি সত্যি নং। এদিকে খাদ্য বিষয়ক বিখ্যাত্য ম্যাগাজিন ইটিং ওয়েল তার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৯ সালে জানিয়েছেন ডিমের কুসুমে কোলেষ্টরল আছে তার আর্টারি ব্লক কিংবা হার্ট এ্যাটাকের কারণ হিসাবে ডিমের কুসুমকে দায়ী করা যায় না।

 

 

পেনসিলভেনিয়ার ষ্টেট ইউনিভারসিটির পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ডক্টর পেনি ক্রিসইথারটন বলেছেন বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা খাদ্যের মাধ্যমে যে ধরণের কোলেস্টরল গ্রহন করি তা রক্তের কোলেষ্টেরল বাড়াতে তেমন কার্যকর ভূমিকা পালন করে না। কারণ আমাদের শরীর নিজ থেকেই কম মাত্রার কোলেষ্টেরল উৎপাদন করে তা পুষিয়ে নেয়। ক্রিস-ইথারটন এর মতে স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট রক্তের কোলেষ্টেরল বাড়াতে জোরালো ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আশার কাথা হলো একটি বড় মাপের ডিমে খুবই সামান্য পরিমান স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে এবং কোন ট্রান্স-ফ্যাট থাকে না।

 

 

হার্টের সমস্যা কিংবা ডায়াবেটিসের হিস্ট্রি না থাকলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়স ৪৫ বছরের কম হলে দি আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন প্রতিদিন ৩০০ মিঃ গ্রামঃ কম কোলেষ্টেরেল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, একটি বড় মাপের ডিমে পাচনযোগ্য বা সহজে হজম হয় এমন কোলেষ্টেরেলের পরিমান ২১১ মিঃ গ্রামের বেশি নয়।

 

 

ডিম সুস্বাস্থ্য গঠন করে। হৃদপিন্ডের স্বাস্থ্য ও কার্যকারীতা কক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আথ্রাইটিস প্রতিরোধ করে। গর্ভস্থ মস্তিষ্ক বৃদ্ধি সাধন করে। এটা মস্তিষ্কের খাদ্য। মানুষের রক্তের স্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্ত চাপ বজায় রাখতে সহায়তা করে। দেহের অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে ফলে ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইট কমিয়ে আনে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। গিটের ব্যাথ্যা, মাথা ব্যাথা কমায়, যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে এবং বৃদ্ধ বয়সে স্মরণ শক্তি বাড়ায়। তাই একটি ডিম প্রতিদিন ডিমের গুন অসীম।

 

 

 

ডা. মো. আনিসুর রহমান

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার

ফেনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial